প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী–সংসদ সদস্যদের চাপে বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। এসব প্রকল্প যাতে সহজে পাস করানো যায়, সে জন্য কৌশলে ব্যবহার করা হয়েছিল শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম। কিছু প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হলেও কাজে আসছে না। এতে সরকারি টাকার অপচয় হয়েছে।
শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে গত ১৫ বছরে ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ৮২টি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৮টি প্রকল্পের কাজ শেষ, বাকি ৪৪টি প্রকল্পের কাজ চলছে।
প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল বিনোদনকেন্দ্র, সাফারি পার্ক, দৃষ্টিনন্দন ভবন, নভোথিয়েটার, আইসিটি, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠার নামে। প্রকল্পগুলো নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, ছেলে শেখ কামাল ও শেখ রাসেলের নামে। এ ছাড়া শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের নামে আরও ৪৩টি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এগুলো অনুমোদনের আগেই সরকারের পতন হয়
পদত্যাগ করার তিন মাস আগে একটি একনেক সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরক্তি প্রকাশ করে নিজের নামে আর কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম না দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত ৯ মে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় তিনি বলেন, নিজের নাম ব্যবহার করে যাতে আর প্রকল্প না নেওয়া হয়। তবু নাম দেওয়া থামেনি। অতি উৎসাহী প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রকল্প নিয়েছিলেন। সরকারি নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।প্রকল্পগুলো নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, ছেলে শেখ কামাল ও শেখ রাসেলের নামে।
শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে নেওয়া ৮২ প্রকল্পের তালিকা করা হয়েছে শুধু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নেওয়া প্রকল্প থেকে। এর বাইরেও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টসহ (বিসিসিটি) সরকারের অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রকল্প নিয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে আরও অনেক স্থাপনা করা হয়েছে গত ১৫ বছরে।
জেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেখ পরিবারের নামে নেওয়া বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও তা কাজে আসছে না। স্থাপনা নির্মাণ করার পর পড়ে আছে। কোথাও জনবলের অভাবে অবকাঠামো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আবার কোথাও ওই প্রকল্পের আবেদনই ছিল না। এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রীদের চাপে, কোথাও রাজনৈতিক বিবেচনায়, কোথাও সরকারের উৎসাহী কর্মকর্তাদের প্ররোচনায়, কোথাও ঠিকাদারদের পরামর্শে। ফলে এসব প্রকল্পে কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে, সে প্রশ্ন তোলার সাহস কেউ করেনি।
অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখানে কোনো জবাবদিহি নেই। এ ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন।


0 Comments:
Post a Comment